![]() |
| Tobacco |
তামাক এমনই একটা খাদ্য যার কোন ভাল গুনাগুন বা কোন ভাল দিক নেই। অর্থাৎ সবই খারাপ দিক। তামাক হচ্ছে দুই প্রকার, ধূয়াহীন তামাক যেমন, গুল, জর্দা, সাদা পাতা, দকত্তা। দ্বিতীয় টা হচ্ছে ধূয়া যুক্ত তামাক
যেমন বিড়ি, সিগারেট, চুরুট, হুক্কা, ইসিগারেট। দুয়া দিয়ে অনেকভাবে এটা ব্যবহার করা যায়। তবে তামাক কিন্তু দুই তিন ভাবে ব্যবহার করা হয়। তামাক মানুষকে দুই ভাবে ক্ষতি করে।
যারা সরাসরি বিড়ি সিগারেট টানে তারা তো ক্ষতির সম্মুখীন হন এবং এবং যারা ধূমপান করেন না, কিন্তু ধূমপায়ীর সাথে বসবাস করেন অথবা তাদের পাশের কোন এলাকায় বসবাস করেন বা পাশের বাসায় বসবাস করেন।
তারাও কিন্তু পরোক্ষভাবে ধূমপানের শিকার হন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হন বা রোগ আক্রান্ত হন। তামাকের মধ্যে সাত হাজার রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এগুলো সবই বিষাক্ত।
বিশেষজ্ঞরা বলেন এই সাত হাজারের মধ্যে ৭০ টি হচ্ছে কারসিনোজেনিক এগুলো সবই ক্যান্সার সৃষ্টি করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটা প্রতিবেদন করেছে তারা তাতে দেখিয়েছে। তামাক দ্বারা মানুষে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেই যা তামাক দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। যেমন মাথার চুল থেকে শুরু করে পায়ের নখ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা রোগ আক্রান্ত হয়।
যেমন, চুল পড়া, ব্রেন স্ট্রোক হওয়া, চোখে ছানি পড়া, গলার ক্যান্সার, মুখের ক্যান্সার, ফুসফুসে ক্যান্সার, হৃদরোগ, পেটের পরিপাকতন্ত্রের রোগ, পুরুষদের যৌনশক্তি কমে যাওয়া, মেয়েদের অকালে গর্ভপাত, স্তন ক্যান্সার, পায়ের পচনশীল রোগ দেখা দেওয়া, অর্থাৎ গ্যাংগ্রিন হওয়া এর কারণে পা কেটে ফেলতে হয়।
এই রোগগুলো হয় প্রত্যাক্ষ এবং পরোক্ষ ধূমপানের দ্বারা। অনেকে মনে করতে পারেন মহিলারা তো ধূমপান করে না তাহলে তাদের কেন হয়। মূলত তারাও পরোক্ষভাবে ধূমপানের শিকার হয়।
অথবা অনেকে পান খায় অর্থাৎ পানের সাথে তামাক খায় এ কারণে হয়। বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়। রোগীদের মুখে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার।
তামাক হিসেবে যারা জর্দা খান এই জর্দা মুখের ভিতর অনেক সময় থাকলে মুখের ভিতর একটা জিল্লি থাকে পাতলা আবরণের একে বলা হয় মিউকাসমেমব্রেট এইটার মাধ্যমেই তামাকের যে ৭ হাজার রাসায়নিক পদার্থ এবং বিষাক্ত কেমিক্যাল গুলো রক্তের সাথে মিশে যায়।
যারা ধূমপান করেন তারাই যে শুধু হৃদরোগ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তা নয় যারা ধূয়া হীন গুল জর্দা ব্যবহার করেন তাদেরও ক্যান্সার, হৃদরোগ হয়। তামাক দুইভাবেই ক্ষতিকর। তামাক বর্জন করা উচিত।
এটা তামার ব্যবহারে মানুষের দেহে ২৫ টি রোগ হয়। আর রোগের জন্য আমাদের মৃত্যু ও তাড়াতাড়ি হয়ে থাকে।
যারা ধূমপান করেন তারা মূলত যারা ধূমপান করেন না তাদের থেকে ২০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশের পরিসংখ্যা নেই বলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রায় চার কোটির মত মানুষ তামাক ব্যবহার করেন।
এদের মধ্যে তরুণরাই বেশি । এবং যারা মাদক সেবন করেন তারা মূলত ধূমপান দিয়েই শুরু করেন।
যারা মাদকাসক্ত তারা ৯৮% ই ধূমপাই। তাহলে আমাদের উচিত তরুণ সমাজকে মাদকাসক্ত এবং ধূমপান থেকে ফিরিয়ে আনা।
একটি গবেষণায় বলা হয়েছে দেশে যে চুরি ছিনতাই রাহাজানি খুন হত্যা ব্যাভিচার এগুলা যারা সংঘটিত করেন তারা মূলত মাদকাসক্ত এবং ধূমপাই।
সুতরাং ধূমপান একটা অপরাধ এই অপরাধ থেকে শুরু হয় মাদকাসক্ত অপরাধ এবং সেখান থেকেই শুরু হয় সমাজের নানা বিশৃঙ্খলা যেমন খূন হত্যা রাহাজানি চুরি ডাকাত।
তাহলে যদি অপরাধ দূর করতে চাই সমাজ থেকে তাহলে ধূমপান বর্জন করতে হবে। তাহলে আমাকে দেহ ভালো থাকবে শরীর ভালো থাকবে সমাজ ভালো থাকবে। ইনশাআল্লাহ।
Read more for: লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা এবং লেবুর পুষ্টিগুণ

0 মন্তব্যসমূহ