ফিলিস্তিনে স্বাধীনতা সংগ্রামী শক্তিশালী সংগঠন হামাস 2024
Hamas Tanel

ফিলিস্তিনে স্বাধীনতা সংগ্রামী শক্তিশালী সংগঠন হামাস:

ফিলিস্তিনে স্বাধীনতা সংগ্রামী সবচাইতে শক্তিশালী মুক্তিকামী সংগঠন হলো হামাস তারা নিজেদের অধিকার ও স্বাধীনতা ফিরে পেতে লড়াই করে যাচ্ছেন এটা সবাই জানেন। অথচ পশ্চিমা বিশ্বে তারা সন্ত্রাসী নামে পরিচিত। পশ্চিমারা জেনে বুঝেই তাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছে।

কারন মধ্যে প্রাচ্চে তাদের শক্ত অবস্থান নিশ্চত করতে ইজরায়েলকেই বেশি দরকার। তবে ইজরাইল কি তাদের সামরিক শক্তি এবং পশ্চিমাদের সহযোগিতায় হামাসের নাম চিরতরে মুছে ফেলতে পারবে? এর উত্তর হলো :- কখনো না। বরং তাদের নিজেদের নামই মুছে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

কারন ইসরায়েল এর সাথে রয়েছে পশ্চিমা শক্তি আর  হামাসের বড় শক্তি হলো তাদের জানের মতো ছড়িয়ে রয়েছে সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক। যেগুলো শুধু গাজাতেই সীমাবদ্ধ নয় এই সুড়ঙ্গ কিছু কিছু অংশ চলে গিয়েছে ইসরায়েলের ভিতর পর্যন্ত। 

এবং কিছু অংশ মিশর থেকে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ও ছড়িয়ে আছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন হামাস মাটির নিচে আর একটি হামাস তৈরি করে ফেলেছে। তাদের মতে হামাস মাটির নিচে ৫০ হাজার দৈর্ঘ্যের বিশাল টানেল তৈরি করে রেখেছে। 

এটা আসলে কতো বিশাল তা আপনি কল্পনা ও করতে পারবেননা। বলা যায় এর দূরত্ব প্রথিবীর স্যাটেলাটের দৈর্ঘ্যের সমান। হামাস কিভাবে তাদের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে প্রতিরোধি হামলা করে। এবং তারা এতে কিচুটা সু রক্ষিত থাকে। 

এ কারনে ইসরায়েল বার বার ঘোষণা দিয়েও স্থল অভিযান চালায়না। ফিলিস্তিন সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ শুরু করে ২০০১ সালে। ২০০৭ সালের মধ্যে হামাস অনেক সুড়ঙ্গ তৈরি করে ফেলে। 

ধারনা করা যায় গাজায় মাটির নিচে ১৩০০ শোর মতো সুড়ঙ্গ আছে। ইসরায়েল যখন বুঝতে পারে তখন গাজা - মিশর সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ কারনে গাজায় তখন চরম খাদ্য সংকট দেখা দেয়। তাই বাধ্য হয়ে হামাস আরো ২৫০০ শত সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক তৈরি করে। 

এ সব সুড়ঙ্গ দিয়ে তেল, খাদ্য,  অস্ত্র আনা নেয়া করা হয়। ২০১০ সালে ইসরায়েল পন্য আনা নেওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। কিছু সুড়ঙ্গ ইসরায়েল এর চাপে মিশর ধংস করে দেয়। 

এর পর হামাস ইসরায়েল এর উপর প্রতিশোধ নিতে আরো সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক তৈরি করে। এসব সুড়ঙ্গ হামাসের সদস্যরাই জানতো এবং ব্যবহার করতো এখানে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিলো। গাজায় সুড়ঙ্গর গভীরতা মাটির ১০০ ফুট নিচে। 

মাটির এতো নিচে আলো না থাকায় সেখানে বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা করা হয়। সুড়ঙ্গের ছাদ দেয়াল পাথরের তৈরী যাতে ধসে না পড়ে। সুড়ঙ্গর পথ স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, এবং বাজার এসব জনবহুল যায়গায় রাখা হয়। যাতে সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ব্যবহারে কেহ সন্দেহ করতে না পারে। 

একটা হামলার জন্য একটি সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। কারন ইসরায়েলি বাহিনী তা সনাক্ত করে ধংস করে দেয়। তাই পরে ব্যবহার উপযোগী থাকে না। কিছু সুড়ঙ্গে হামাসের কমান্ডাররা থাকেন কিছু সুড়ঙ্গে অস্ত্র রাখা হয়। 

২০১৪ সাল থেকে ৯০০ কর্মী অনাবরত কাজ করে যাচ্ছেন। একটা সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক তৈরি করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। একটা সুড়ঙ্গ তৈরি করতে এক কোটি টাকা ব্যায় হয়। 

এই সুড়ঙ্গ তৈরির নকশা করে ইরান ও উত্তর কোরিয়া। ২০১৪ সালে ইসরায়েল একটি অভিযান চালায় এতে হামাসের ৩২ টি টানের ধংস করে দেয়।  এর মধ্যে ১৪ টি ছিলো গাজা ও ইসরায়েলের ভিতর পর্যন্ত এই সুড়ঙ্গ কতো দূর পর্যন্ত তা ইসরায়েলের কাছে কোনো স্পস্ট কোনো ধারণা নেই।

প্রায় ১৩০০ সুড়ঙ্গ নিয়ে হামাসের টানেল নেটওয়ার্ক। একবার হামাস জানিয়ে ছিলো প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ্য টানেল নেটওয়ার্ক। 

লন্ডন শহরের মেট্রোরেল ৪০০ কিলোমিটার। আর ৩৬৫ বর্গ কিলোমিটার গাজায় ৫০০ কিলোমিটার টানেল। প্রত্যেকটা শহর এই সুড়ঙ্গর আওতাভুক্ত। বিশেষজ্ঞরা বলেন ৫০০ নয় ৫০ হাজার কিলোমিটার টানেল তৈরি করে ফেলেছে হামাস। হামাস মাটির নিচে আর ও একটি হামাস তৈরি করে ফেলেছে।  

এগুলো ইসরাইলিদের জন্য হুমকি। কিছু দিন আগে ও ইসরায়েল ১০০ কিলোমিটার টানেল নেটওয়ার্ক ধংস করে দেয় হামাসের। তখন হামাস জানায় ইসরায়েল মাত্র ৫ শতাংশ টানেল ধংস করেছে। 

হামাস যেনো আর কোনো সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক তৈরি করতে না পারে এজন্য ইসরায়েল সীমান্তে এন্টি সেন্সর বসিয়েছে।  কিন্তু হামাস  মাটির অনেক গভির দিয়ে সেন্সর ফাঁকি দিয়ে অনেক সুড়ঙ্গ তৈরি করেছে। এই সুড়ঙ্গর কারনেই ইসরায়েলি শক্তি ও পশ্চিমা শক্তি যেনো প্রাই অকেজো। 

এজন্য বার বার স্থল অভিযান এর কথা বললও থমকে আছে। এটা ইসরাইলি বাহিনীর জন্য একটা ফাঁদ। এই সুড়ঙ্গর গভীরে স্যাটেলাইট কাজ করেনা, জিপিএস ট্রাকার দিয়ে ও ট্রাক করা যায় না। 

ইসরায়েল যদি ওবা কখনো টানেল খুজে পায় তবুও টানেল ধংস করা চ্যালেন্জ হয়ে যাবে। তাই ইসরায়েল বাহিনী বিমানে করে বোমা হামলা চালায়, এ বোমা মাটির নিচে কাজ করেনা।  তারপর ইসরায়েল ইমুনসা নামক এক ধরনের বিস্ফোরক দিয়ে ধংস করার চেস্টা চালায় তাতেও কাজ হয়নি।  

কারন প্রতিটি সুড়ঙ্গ ধংস করতে প্রায় ১১ টন বিস্ফোরক লাগবে। এজন্য বাংকার নামক বোমা ফেলা হয় যে বোমা মাটির অনেক নিচে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে তাতেও ধংস হয়নি টানেল। 

বর্তমানে ইসরায়েলের গ্রাউন রোবট আছে যেটা সুড়ঙ্গর ফাদ নিশ্চিত করে। কিন্তু সে রোবট অনেক ফাদে আটকে যায়।  এক্ষেত্রে সেনাদের গিয়ে রোবট ছাড়িয়ে আনতে হয়। এ রোবটও মুলত ফাঁদে পরিনত হয়েছে। যা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কাজ করে। 

এ সুড়ঙ্গর ১০০ মিটার নিচে নামা আর মরুভূমির ১ কিলোমিটার দৌড়ানো একিকথা। ইসরায়েল ও সুড়ঙ্গ তৈরি করে সেখানে প্রশিক্ষন নিয়েছে। 

তাতেও কাজ হয়নি। টানেল ধংস করতে গেলে দু পক্ষের ই ক্ষতি হবে কিন্তু ইসরায়েল সফলতা পাবেনা। আমেরিকার আফগানিস্তানে এক বছরে যে বোমা ফেলেছে তা ইসরায়েল ফেলেছে মাত্র দশ দিনে। 

ইসরায়েল গাজাকে সন্ত্রাসী নাম দিয়ে তাদের নিরীহ মানুষের উপর গনো হত্যা চালাচ্ছে। অথচ নিজেরাই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে যাচ্ছে। 

হারানো ভূমি ফেরে পেতে যারা লড়াই করে যাচ্ছেন তাদেরকে বলা হচ্ছে সন্ত্রাসী। অথচ প্রথিবীর সমস্ত সন্ত্রাসীদের সাথে তুলনা করলে ইসরায়েল প্রথম স্থান অধিকার করবে।