হাড় ক্ষয় কেনো হয় 2024
হাড় ক্ষয়

হাড় ক্ষয় কেনো হয় : 

হাড় ক্ষয় মূলত হাড়ের ঘনত্ব কমে যায। ক্যালসিয়াম, মিনারেল কমে যাওয়ার কারনে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। শরীরে কিছু যায়গা আছে যেখানে হাড় ক্ষয় বেশি হয়। যেমন,  মেরুদণ্ড, হিব্বানে, হাতের কব্জিতে, এছাড়া শরীরে যে কোনো যায়গায় হাড়্ড়ি ক্ষয় হতে পারে, এমনকি বুকের খাচায়ও কিন্তু হাড় ক্ষয় হতে পারে। 

হাড় ক্ষয় বা Osteoporosis কয় প্রকার: 
হাড় ক্ষয় দুই প্রকার 
১) প্রাইমারি হাড় ক্ষয় অর্থাৎ টাইপ-ওয়ান 
২) সেকেন্ডারি হাড় ক্ষয় বা টাইপ-টু 
অল্প বয়সে যাদের হয় তাকে বলে, টাইপ ওয়ান 
অনেক বয়সে যাদের হয় তাকে বলে টাইপ টু 

হাড় ক্ষয় কি?: 
Osteo অর্থ হাড়, আর Prosis অর্থ ছিদ্র, অর্থাৎ হাড়ার মধ্যে ছোট ছোট ছিদ্র হলে তাকে Osteoporosis বলে। হাড়ের দুটি অংশ থাকে উপরের শক্ত আবরনকে কে বলা হয় কমপ্যাক্টবন। ভিতরের ছিদ্র বা স্পনচ আবরনকে বলা হয় স্পনচিবন।

হাড় মূলত একদিকে ক্ষয় হয় আবার অন্য দিকে গঠন হতে থাকে।
যখন হাড় গঠনের চাইতে ক্ষয় বেশি হয় তখন তাকে Osteoporosis বলে।
কম্প্যাক্টবন এর গঠন দশ বছর পর পর বদলাতে থাকে। এদিকে স্পনচিবন এর গঠন দুই তিন বছর পর পর বদলায়।
Osteoporosis দেখা দেয় যখন হাড়ের উপরের অংশ চিকন বা পাতলা হতে থাকে। আর ভিতরের অংশ বা স্পনচিবন এর ছিদ্র গুলো বেড়ে যায় বা ঘনত্ব কমে যায়। এতে হাড় দূর্বল হয়ে যায়। 

কেনো হয় : 
মনুষের হাড় বেশি শক্ত থাকে  ২৫- ৩০ বছরের মধ্যে। এর পর থেকে হাড় আস্তে আস্তে দূর্বল হতে থাকে। 
আর এটি বার্ধক্য জনিত একটি প্রকৃয়া। তবে কিছু মানুষের হাড় ক্ষয় সাধারণের তুলনায় একটু বেশি। 

কারা বেশি ঝুঁকিতে : 
প্রতিনিয়ত এ রোগ বেড়েই চলেছে পুরুষদের তুলনায় নারীরা এ রোগে আক্রন্ত হয় বেশি। বিশেষ করে নারীদের মাসিকের পরে এস্টোজেন, প্রস্টজেন কমে যায়।  আর এ কারনে হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে। মুলত ৪৫ বছর এর কিছু আগে পরে মহিলাদের মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। 

এছাড যে নারীরা ডীম্বাসয় অবসারন করে থাকে তারাও এ ঝুঁকিতে থাকে। অনেকের জীনগত কারনে হেতে পারে,  আবার অনেকের খাদ্য অভ্যাসে ত্রুটি থাকলে ও হতে পারে। জীবন যাত্রার মানের উপর কিছুটা নির্ভর করে।  

যেমন আফ্রিকার মানুষের হাড়ের গঠন অনেক শক্তিশালী থাকে। 
তবে এখেত্রে শেতাঙ্গরা কিছুটা পিছিয়ে আছে। 
আবার অনেকে খাবারে বাচ-বিচার করেনা স্থুলতায় ভোগে। 

অথবা অপুষ্টিতে ভোগে এবং শুয়ে বসে সময় কাটায় কোনো পরিশ্রম করে না অথবা বড় কোনো রোগে আক্রান্ত তাদের কিন্তু হাড় ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি বেশি।  এবং পরিবারের কারো এ রোগ থাকলে পরবর্তী প্রজম্নের আক্রন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়াও ধুমপান, মদপান, মাদকে আক্রান্ত ব্যাক্তির এ রোগ হতে পারে। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, এর কমতি থাকলে হাইপার থাইরয়েডিযম থাকলে, ডায়াবেটিস বা ক্যান্সারে আক্রান্ত থাকলে যেকোনো বয়সেই Osteoporosis হতে পারে। 
এনোরেকসিয়া বা বুলিমিয়ার খাওয়ার ভ্যাকেন থাকলে এবং ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এ রোগ হওয়ার প্রধান কারন তিন মাসেরও বেশি সময় যাবত উচ্চ স্টেরয়েড ও এন্টি এস্টোজেন ট্যাবলেট গ্রহন করলে। এটা নারীরা মূলতঃ স্তন ক্যান্সারের পরে গ্রহন করেন। 

এ ধরনের ঔষধ গ্রহন করলে হাড় ক্ষয় এর ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে কব্জির হাড়, উরুর হাড়,মেরুদন্ডের হাড় গুলো বেশি দূর্বল হয়ে পড়ে। এবং বাহু, কোমরের হাড়, পাজরের হাড় নরম হয়ে পড়ে। এমনো হয়েছে জোরে হাচি দেওয়ার কারনে পাজরের হাড় ভেঙে গেছে। 
আবার মেরুদণ্ডের হাড়ে ফাটল ধরেছে। 

এ রোগ নিরাময় করা যায় না। তবে প্রথমদিকে ধরা পড়লে অনেকটা সুস্থ থাকা যায়। হাড় ক্ষয় এর প্রথম পর্যায়কে অস্টপেনিয়া বলে। এ সময় রোগ ধরা পড়লে এবং সাথে সাথে চিকিৎসা নিলে হাড় ক্ষয় ভালো করা যায়।
এ সব তথ্য নেওয়া হয়েছে, ব্রিটিস জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সেন্ট্রাল যা ডিজিস কন্ট্রোল এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থেকে।

লক্ষ্মণ বা উপসর্গ: 
বাংলাদেশ অর্থপেডিস্ক সোসাইটির মতে বাংলাদেশে প্রায় তিন শতাংশ লোক এ রোগে আক্রান্ত, এর মধ্যে নারী বেশি। আপনার হাড় ক্ষয় আছে কিনা তা বোঝার কোনো উপায় নাই যখন হাড় দূবল হয়ে ভেঙে যায় বা ব্যাথা অনুভব হয় তখন বিষয়টা যানা যায়।

প্রথম পর্যায় এ রোগোর কোনো আলামত দেখা যায় না। পরিস্থিতি যখন কঠিন রূপ নেয় তখন ঘাড়, কোমর, পাঁজর, মেরুদণ্ড প্রায়ই ব্যাথা অনুভব হয়। 
বেশি দূর্বল লাগে এবং যাদের বেশি বয়স তাদের উচ্চতা কমে যায়। বা কুজো হয়ে যায়। 

কারন হাড় ক্ষয় বা দূর্বল হওয়ার কারণে শরীরের ভার মেরুদণ্ড নিতে পারে না। ঐজন্য মেরুদণ্ড বাকানহয়ে যায়। শরীর কুজো হয়ে যায়। উচ্চতা কমে যায়। পাঁজরের হাড়ও নিচের দিকে ঝুকে যায়। 
হাড় না ভাঙ্গলে বেশি কস্টকর মনে হয় না।
তবে মরুদন্ডের হাড় যদি একবার ভেঙে যায় তাহলে অনেক দিন ভুগতে হয়। 

প্রতিরোধ
হাড় রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ করা জরুরি। বয়স বাড়ার আগেই এ রোগের প্রতি সতর্ক হতে হবে। আমরা বুড়োদের শুয়ে কিংবা বসে থাকতে বলি। কিন্তু না বয়স বাড়লে বেশি পরিশ্রম করা দরকার যারা নিয়মিত শরীর চর্চা করেন বা পরিশ্রম করেন তাদের হাড় বেশি শক্ত হয়ে থাকে।

এতে হাড় ক্ষয় কমে হাড়ের ঘনত্ব বা গঠন বাড়ে। রক্তের ক্যালসিয়াম, ফসফেট ও স্টোজেন, টেস্টোরন, এ্যাস্টোজেন এগুলো হাড় গঠনে সাহায্য করে। তাই ক্যালসিয়াম, ভিটামিন , প্রোটিন ও মেগা ৩ ফ্যাটি এসিড, এন্টি অক্মিডেন্ট যুক্ত খাবার গ্রহন করুন।

সেই সাথে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করা যেতে পারে। এভাবে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ করা যায়। এবং ধুমপান, মদপান, মাদক সেবন পরিহার করতে হবে।

পরিক্ষা
হাড় রোগ পরিক্ষা করে ডুয়েল এনার্জি এক্সরে, এপচপসিও খেট্রি বা টেক্সস্কান এর মাধ্যমে। এর মধ্যে রোগিকে শুয়ে শরীরে বিভিন্ন অংগ পরিক্ষা করা হয়। যা ব্যাথা মুক্ত পদ্ধতি এবং ৩০ মিনিটের মধ্যে হয়ে যায়। 
এটা গননা করা হয় টিস্কোর দিয়ে টিস্কোর যদি (-২.৫) বা তার কম আসে তাহলে বুঝতে হবে রোগীর Osteoporosis আছে। এছাড়াও পরিক্ষা করে রোগীর হাড়ের ঘনত্ব বা অবস্থা কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। রোগীর হাড়ের অবস্থা কোন গ্রেডে আছে। 

তা রোগীর বয়স, লিংগ, হাড় ভাঙ্গার ঝুঁকি, আগে কখনো হাড় ভেঙ্গেছিল কিনা, এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে ডাক্তার চিকিৎসা করেন। যদি অস্টিওপনিয়া বা প্রাথমিক পর্যায় রোগটি ধরা পড়ে। তাহলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
যদি এ রোগ হয়েই যায় তাহলে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি চলাফেরায় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এবং নিয়মিত দৃষ্টি শক্তি ও শ্রবন শক্তি পরিক্ষা করতে হবে।

হাড় ক্ষয় কেনো হয় 2024
হাড় ক্ষয়
চিকিৎসা : 
হাড় মজবুত করতে ঔষধ ব্যবহার করা যায়। প্রতিদিন আমাদের হাড় কতোটা মজবুত হচ্ছে তা নির্ভর করে ক্যালসিয়ামের উপর মানব দেহের প্যারা থাইরয়েড হরমোন এবং ক্যাসাট্রোনিল হরমোন সাথে ভিটামিন ডি, সেরাম ক্যালসিয়াম লেবেলকে প্রভাবিত করে চিকিৎসকরা রোগির পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে ঔষধ দেন। 

যেমন ন্যাজাল স্প্রে, ভিটামিন ডি, সাপ্তাহিক অথবা মাসিক হরমোনাল ইনজেকশন ও ঔষধ দেন। মনো পাউজ আক্রান্ত স্ত্রীদের মনো স্টোজেন বা হরমোনাল ঔষধ দিয়ে হাড়ের ঘনত্ব বাড়ানো হয়।