দাজ্জালের ফিতনা সম্পর্কে জানুন 2024
দাজ্জালের ফিতনা

দাজ্জালের ফিতনা সম্পর্কে জানুন:
ফাতিমা বিনতে কায়েস রাঃ বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর ঘোষক কে এ ঘোষণা দিতে শুনতে পেলাম, সালাতের জন্য মসজিদে যাও,

সুতরাং আমি মসজিদে গেলাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর সাথে সালাত আদায় করলাম। 

সালাত শেষে তিনি মেম্বারে উঠে বসলেন এবং মৃদু হেসে বললেন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ সালাতের স্থানে বসে থাকো। তারপর বললেন, তোমরা কি জানো আমি তোমাদেরকে কেন একত্রিত করেছি? 

সাহাবাগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ইসলামি অধিক জানেন।

তিনি বললেন, আল্লাহর কসম আমি তোমাদেরকে কিছু দেওয়ার জন্য বা কোন ভয়-ভীতি প্রদর্শনের জন্য সমবেদ করিনি বরং তামিম নারীর একটি ঘটনা তোমাদের শোনানোর জন্য তোমাদেরকে একত্রিত করেছি। 

তামিমদারি ছিল একজন খ্রিস্টান লোক। সে আমার কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করেছে। সে আমাকে এমন একটি ঘটনা শুনিয়েছে। 

তা ওই কথার সাথে মিলে রাখে যা আমি তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে শুনিয়েছি। সে বলল, একদা সে লাখান গোত্রের ত্রিশ জন লোকের সঙ্গে একটি সামুদ্রিক নৌকায় বের হয়েছিল। 

সাগরের তরঙ্গ তাদেরকে দীর্ঘ একমাস পর্যন্ত এদিক সেদিক ঘুরাতে থাকে। অবশেষে একদিন সূর্যাস্তের সময় একটি দ্বীপের কাছে নিয়ে পৌঁছল। 

অতঃপর তারা উক্ত বড় নৌকার গায়ের সাথে বাধা ছোট ছোট নৌকার যুগে দীপ্তির অভ্যন্তরে প্রবেশ করল এবং সেখানে এমন একটি প্রাণীর সাক্ষাৎ পেল 

যার সারা শরীর বড় বড় লুঙ্গি ঢাকা অধিক পশমের কারণে তার কোথায় মুখ আর কোথায় পিছন তা বুঝা যায় না। 

তখন তারা তাকে লক্ষ্য করে বলল, তোর অমঙ্গল হোক তুই কে সে বলল, আমি জাসসাস গুপ্ত সংবাদ অন্বেষণকারী। 

তোমরা ওই ঘরে আবদ্ধ লোকটির কাছে যাও সে তোমাদের সংবাদ জানার প্রত্যাশী। 

তামিম দাঁড়ি বলেন, উক্ত প্রাণীর কাছে লোকটির কথা শুনে আমাদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার হলো যে, সে শয়তান হতে পারে। 

তখন আমরা দ্রুত সেখানে গেলাম এবং সে ঘরে পরিবেশ করলাম। 

সেখানে এমন একটি প্রকাণ্ড দেহ বিশিষ্ট মানুষ দেখতে পেলাম, ইতিপূর্বে যা আর কোনদিন দেখিনি। সে খুব শক্তভাবে বাধা অবস্থায় ছিল। 

তার হাত ঘাড়ের সাথে আর হাঁটুদয় নিচের উভয় গিটের সাথে লোহার শিকল দ্বারা একত্রে বাধা ছিল। 

আমরা তাকে বললাম, তোমার অমঙ্গল হোক! তুই কে? সে বলল, নিশ্চয়ই তোমরা আমার সম্পর্কে জানতে পারবে, আমি তা গোপন করব না, তবে তোমরা আমাকে বলো তোমরা কে? তারা বলল, আমরা আরবের লোক।

আমরা সমুদ্রের একটি নৌকায় আরোহী ছিলাম, দীর্ঘ একমাস সাগরের ঢেউয়ে আমাদের এদিক সেদিক ঘুরিয়ে এখানে এনে পৌঁছালো। 

তারপর আমরা অত্র দ্বীপে প্রবেশ করলাম, তারপর গণ পশমের সারা দেহ ঘেরা এমন একটি প্রাণীর সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হলো। 

সে বলল, আমি গুপ্ত সংবাদ অন্বেষণকারী। সে আমাদের এই ঘরে আসতে বলল, আমরা দ্রুত তোমার নিকট এসে উপস্থিত হলাম। 

সে বলল আচ্ছা তোমরা আমাকে বলো দেখি! বাইসান এলাকায় খেজুরের গাছে ফল আসে কি? বাইসান হেজাজ এর একটি জায়গার নাম। বললাম, হ্যাঁ, আসে।

সে বলল অদূর ভবিষ্যতে সে কাছে আর ফল ধরবে না। তারপর সে বলল, আচ্ছা বল দেখি, তাবাড়িয়া নামক বিলে কি পানি আছে? আমরা বললাম, হ্যাঁ তাতে প্রচুর পরিমাণ পানি আছে। 

এবং সেখানকার লোকরা পানি দ্বারা জমি চাষাবাদ করে। তারপর সে জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা বল দেখি! নিরক্ষর নবীর সংবাদ কি? আমরা বললাম, তিনি এখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় অবস্থান করছেন। 

সে জিজ্ঞেস করল, আরবেরা কি তার সাথে যুদ্ধ করেছিল? আমরা বললাম, হ্যাঁ করেছি। 

সে তারপর জিজ্ঞেস করল, তিনি তাদের সাথে কিরূপ আচরণ করেছেন? আমরা বললাম, তিনি আশেপাশের আরবদের প্রতি জয়ী হয়েছেন এবং তারা তারা আনুগত্য স্বীকার করেছে।

সেসব শুনে সে বলল, তোমরা জেনে রাখো! তার আনুগত্য করা তাদের জন্য মঙ্গলজনক। আচ্ছা এবার আমি আমার অবস্থা বর্ণনা করছি আমি দাজ্জাল।

অদূর ভবিষ্যতে আমাকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। আমি বের হয়ে জমিনে বিচরণ করব। মক্কা মদিনা ব্যতীত ৪০ দিনের মধ্যে পৃথিবীর সব স্থান বিচরণ করব। 

এ দুটি স্থানে আমার জন্য প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যখনই আমি তার কোন একটিতে প্রবেশের ইচ্ছা করব, তখন ফেরেশতা উন্মুক্ত তরবারি হাতে নিয়ে আমাকে প্রবেশ করা হতে, বাধা প্রদান করবে। 

বস্তুত তার প্রতিটি পরিবেশপথে ফেরেশতা পাহারা রত রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, এ পর্যন্ত বর্ণনা করে রাসূল আপন লাঠি দ্বারা মেম্বারে ঠোকা দিয়ে তিনবার বললেন, এটাই মদিনা, এটাই মদিনা, এটাই মদিনা। 

তারপর তিনি বললেন, বল দেখি ইতিপূর্বে আমি কি তোমাদেরকে এই হাদিসটি বর্ণনা করিনি? লোকেরা বলল, জি হ্যাঁ। 

তারপর তিনি বললেন, দাজ্জাল সিরিয়ার কোন এক সাগরে অথবা ইয়েমেনের কোন এক সাগরে আছে। 

পরে বললেন, বরং সে পূর্ব দিক হতে আগমন করবে। কে বলে তিনি হাত দ্বারা পূর্ব দিকে ইশারা করলেন। (মুসলিম, মিশকাত, হাদিস নাম্বার ৫২৪৮)।

❤❤❤ হাতিম বিনতে কায়েস রাঃ তামিম দারির ঘটনা প্রসঙ্গে বললেন, তামিমদারি বলেছেন, সে দ্বীপে প্রবেশ করলে আমি সেখানে সাক্ষাৎ পেলাম যার মাথার চুল এত লম্বা যে, তা জমি নিয়ে এসছে চলে। 

তামিম জারি রাঃ জিজ্ঞেস করলেন, তুই কে? সে বলল, আমি গোপন তথ্য অন্বেষণ করিনি। অতঃপর সে বলল, তুমি এ প্রসাদের দিকে যাও। 

সুতরাং আমি সেখানে আসলাম। তথায় লম্বা লম্বা চুল বিশিষ্ট এমন ব্যক্তিকে দেখলাম যে শক্তভাবে লোহার শিকলে বাধা আসমান ও জমিনের মাঝখানে লাফালাফি করছে। 

আমি বললাম, তুই কে? সে বলল, আমি দাজ্জাল। (আবুদাউদ, মিশকাত, হাদিস  
৫২৫০)।

❤❤❤ ওবায়দা বিন সামেত রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 

আমি তোমাদের কাছে দাজ্জালের কথা বার বার আলোচনা করেছি, তবুও আশঙ্কা করছি যে, তোমরা হয়তো তার প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারছ না। 

জেনে রাখো দাজ্জাল হবে সাইজে খাটো, পায়ের নলা হবে লম্বা লম্বা, চুল হবে খুব কোকড়া কোকড়া। এক চক্ষু কানা অপর চক্ষু সমান হবে। 

একেবারে ভিতরে ঢুবাও হবে না এবং একেবারে বাহিরে উঠাও হবে না। এরপর যদি তোমাদের সন্দেহ হয় তাহলে একথা মনে রেখ যে, তোমাদের প্রতিপালক কানা নন। (আবু দাউদ, মিশকাত, হাদিস ৫২৫১)।

❤❤❤আনাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন, রাসুল সাঃ বলেছেন, এমন কোন নবী অতীত হয়নি যিনি তার উম্মতকে কানা মিথ্যাবাদী দাজ্জাল সম্পর্কে সাবধান করেননি। 

তোমরা জেনে রাখো! নিশ্চয়ই দাজ্জাল খানা হবে। আর তোমরা এটাও নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো যে, তোমাদের প্রতিপালক কানা নন। 

দাজ্জালের দু চোখের মাঝে লেখা থাকবে কাফের। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত, হাদিস ৫২৩৭) 

সে মিথ্যাবাদী ধোকাবাজ এর প্রমাণ স্বরূপ তার দু চোখের মাঝে কাফের শব্দটি লিখা থাকবে। শিক্ষিত বা মূর্খ সকল ঈমানদার মুসলমান এ লিখা দেখতে পাবে এবং পড়তে পারবে।

❤❤❤হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন, দাজ্জালের বাম চোখ কানা হবে। তার মাথার চুল হবে খুব বেশি। 

তার সাথে তার জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে। প্রকৃতপক্ষে তার জান্নাত হবে জাহান্নাম এবং জাহান্নাম হবে জান্নাত। (মুসলিম মিশকাত হাদিস৫২৪০)।