![]() |
| 1000 Taka |
সরকার এতো টাকা ছাপায় টাকা কোথায় যায়।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে সরকারের কাছে তো টাকা ছাপানোর ক্ষমতা রয়েছে। তাহলে কি সরকার যখন তখন ইচ্ছে মতই টাকা ছাপায়? সরকার তো চাইলেই টাকা ছাপিয়ে যেকোনো সংকট মোকাবেলা করতে পারে তাহলে করছে না কেন?
সরকার যখন দেশে বিভিন্ন উন্নয়নে বিদেশ থেকে ঋণ নেয়।
অনেকেই ভাবেন ঋণ নেয়ার কি দরকার টাকা ছাপালেই তো হয় টাকার মূল্য যে কত বড় তা আমরা
সবাই জানি চাইলেই টাকা ছাপানো যায় না।
এর উপর নির্ভর করে অনেক কিছু
কি সেই বিষয়
তা আমরা এখন জানব:
সারমর্ম: প্রথমে জেনে নেয়া যাক টাকা ছাপানো শুরু হয় কোথায় এবং কবে থেকে। টাকা ছাপা হয় গাজীপুরের মুদ্রণ বা টাক সালে। দেশের মানুষের কাছে এটা টাকশাল নামেই পরিচিত।
কিন্তু এটার প্রকৃত নাম দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন বাংলাদেশ লিমিটেড।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ১৯৭১ সালে কিছুদিন যাবত পাকিস্তানি টাকার প্রচলণ ছিল।
তখন ওই টাকার নোটে বাংলাদেশ লেখা স্ট্যাম্প বা সিল ব্যবহার করা হতো। পাকিস্তানি মুদ্রার পরিবর্তে, বাংলাদেশ টাকার প্রচলন শুরু হয় 1972 সালে চার ম্যারচ। টাকা কখন থেকে ছাপা হয়?
মুদ্রা হিসেবে বাংলাদেশে টাকার প্রচলন শুরু হয়েছে অনেক আগে। তাই বলে কি যখন তখন টাকা ছাপানোর দরকার পড়ে। যেকোনো দেশের টাকা ছাপানোর দায়িত্ব থাকে, সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে।
আমাদের দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির কারেন্সি বিভাগ
বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নোটের চাহিদা পূরণ করতে উদ্যোগ নেয়। যেমন, প্রবাসীদের মাধ্যমে রেমিটেন্স হিসেবে দেশে যে ডলার আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা গোছিত রেখে সমপরিমাণ টাকা ছাপিয়ে থাকে
বিভিন্ন ট্রেজারি বিল নাবন্দ সরকারের কাছ থেকে যেগুলো কেনাচ হয় তার বিপরীতে টাকা ছাপানো হয়।
এছাড়াও সারা বছর ধরে ছিঁড়ে যাওয়া, পুড়ে যাওয়া, বা হিসাব করা যায় না। মুনাফা গুলো ব্যাংকিং চ্যানেলে তুলে নেওয়া হয়, যার পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা।
এ ঘাটতি পূরণের জন্য নতুন নোট সরবরাহ করতে হয়। এছাড়াও ঈদের সময় নতুন নোটের চাহিদা বাড়ে, আরেকটি বিষয় হলো মার্কেটে মান সার্কুলেশন, অর্থাৎ অর্থের পূর্বের বিষয়টি সেদিকেও নজর রাখতে হয়।
![]() |
| 1000 Taka |
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন টাকা সরবরাহ করতে হয়। কিন্তু খেয়াল রাখতে হয় সেটি যেন সীমাহীন মূল্যস্ফীতির কারণ না হয়ে যায়। এজন্য একটা ভারসাম্য রাখতে হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। আবার অনেক সময় বিশেষ পরিস্থিতিতে টাকা ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
সরকারের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ যোগান দিতে, নতুন ভাবে টাকা ছাপানো হয়।
টাকা ছাপানো একটা চলমান প্রক্রিয়া। বিশ্বের সব দেশেই টাকা ছাপানো হয়। এটাকে খারাপ হিসেবে দেখছেন না অর্থনীতিবিদরা। তবে দেখতে হবে সেই টাকা কোথায় যাচ্ছে।
যেমন বাজারের তারল্য সংকটের কারণে কিছুদিন আগে, সরকারকে ঋণ দিতে হয়েছে সরকারকে। বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি ইচ্ছে মতো টাকা ছাপাতে পারে?
না তার কোন সুযোগ নেই। প্রতিষ্ঠানটিকে টাকা ছাপানোর আগে অনেক বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হয়। করতে হয়, অনেক হিসেব-নিকেশ। যেমন, দেশের মোট সম্পত্তি। জনগণের সংখ্যা, মোট আয়, সর্বমোট চাহিদা ইত্যাদি। কারণ অতিরিক্ত টাকা ছাপালে নিজের দেশের জন্যই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সেটা কিভাবে? ইচ্ছামত টাকা ছাপালে সঞ্চয়ের মান কমে যায়।
ব্যাংকে টাকা রাখলে নির্দিষ্ট সময়ের পর মুনাফা পাওয়া যায়। কিন্তু অতিরিক্ত টাকা ছাপা হলে আপনি যে মুনাফা পাবেন তা দিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবেন না।মান কমে যাবে অর্থাৎ আপনি এক বছর আগে যে টাকা দিয়ে যে জিনিস কিনতে পারতেন তা এক বছর পর দ্বিগুণ টাকা গুনতে হবে। সেই জিনিস কিনতে ।
এভাবে চলতে থাকলে মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখতে চাইবে না। এবং ব্যাংক খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে কেউ যদি ভেবে থাকেন অতিরিক্ত টাকা ছেপে সরকার বিদেশীদের ঋণ পরিশোধ করতে পারে।
সেটিও ভুল। নতুন অতিরিক্ত টাকা ছাপার ফলে, কারেন্সি রেট কমে যাবে।
ফলে আগের চাইতে আরো বেশি টাকা গুনতে হবে। সম্পদের চেয়ে টাকার পরিমান বেশি থাকলে, সে দেশে দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে যায়। ধরুন একটি দেশে মোট সম্পদ ১০ টি আপেল রয়েছে। তার দাম ২০ টাকা সেদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিবছর 20 টাকা ছাপে। প্রতিটি আপেলের দাম ২ টাকা।
এবার যদি পরের বছর সেদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক চল্লিশ টাকা ছাপে তাহলে কি সম্পদের মান বেড়ে যাবে।
তা কিন্তু নয়। আপেল কিন্তু দশটিই থাকবে মাঝখানে আপেলের দাম ২ টাকা থেকে ১০ টাকা হয়ে যাবে। আপেলের আগের কার মান কমে যায়। এবং দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে যায়।
এই পরিস্থিতিকে বলা হচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি অতিরিক্ত টাকা ছাপানো হলে মুদ্রাস্ফীতি হয়। এর ফলে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, ফলে সরকার নানা দিক বিবেচনা করে নতুন টাকার নোট ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেয়। অতিরিক্ত টাকা ছাপানোর কুফল আমরা দেখতে পাই জিম্বাবুয়ের ক্ষেত্রে।
২০০৮ সালে মুদ্রাস্ফীতির আগে জিম্বাবুয়ে একটি চকলেট এর দাম এক টাকা ছিল মুদ্রাস্ফীতি পরে সেই চকলেটের দাম হয়েছিল কয়েক গুণ বেশি। দৈনিক হিসেবে এটি ছিল ৯৮% বৃদ্ধি অর্থাৎ আজকে যে দ্রব্য ১০০ টাকা কিনতে পারবেন সেটা আগামীকাল হবে ১৯৮ টাকা
এর ফলে দেখা যায় লোকে বস্তায় কিংবা ঠেলাগাড়িতে করে বাজারে টাকা নিয়ে যায়।
তখন জিম্বাবুয়ে সরকার এর নোট তৈরি করতে হয়েছিল, যেমন ১০,০০০ টাকার নোট, এক লাখ, দশ লাখ টাকার নোট ইত্যাদি। ভেনিজুয়েলাতেও এই ঘটনা ঘটেছিল। ১৯২০ সালে জার্মানিতেও ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছিল মানুষ ঠেলাগাড়ি ভরে টাকা আনত বাজার করতে।
ঠেলাগাড়ির মূল্য বেশি হয়েছিল টাকার চেয়ে, যে কারণে মানুষ টাকা রেখে ঠেলাগাড়ি চুরি করত। ছাপানোর পর টাকা সাথে সাথেই বাজার চলে আসে না। ছাপানো শেষ হলে টাকশালের ভল্টে টাকা রেখে দেওয়া হয়। একটি নোট ছাপাতে প্রায় ৩০ টি পর্যায়ে পার হতে হয়।
এখানে বেশ কয়েকদিন সময় লেগে যায়। টাকশাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভলটে রাখা হয়।
নতুন নোট সেখান থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের ভোল্টে হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে টাকা পৌঁছে যায়। তাই যখন তখন ইচ্ছা করলেই টাকা ছাপানো যায় না টাকা ছাপাতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা বিষয় আলোচনা করতে হয়।
Read more for: হাড় ক্ষয় কেনো হয়


0 মন্তব্যসমূহ